))) দাড়ি কামানো (শেভ করা) কবীরা গুনাহ এবং কাফেরদের স্বভাব (((

0

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেনঃ ১) তোমরা কাফেরদের (রীতিনীতি-স্বভাবের) বিরোধীতা কর। ২) তোমরা গোঁফ ছেঁটে ফেল এবং ৩) তোমাদের দাড়িকে বড় কর (বড় হবার জন্য ছেড়ে দাও)। (সহীহ বুখারী, মুসলিম) মুসলিমগণ জেনে রাখুনঃ “রাসূলের নির্দেশ পালন করা ফরয, অমান্য করা কবীরা গুনাহ ও হারাম”। দলীল ১ রাসূল তোমাদের যা (আদেশ) দেন তা পালন কর এবং যা নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাক। সুরা হাশরঃ ৭ দলীল ২ যারা রাসূলের নির্দেশ অমান্য করে তাদের ভয় করা উচিত যেঃ তাঁরা কোন ফিতনায় জড়িয়ে পড়বে, কিংবা (কোন) ভয়াবহ শাস্তি তাদের ঘিরে ফেলবে। সুরা নুরঃ ৮০ দলীল ৩ সঠিক পথ প্রকাশিত হবার পরেও যদি কেউ রাসূলকে অমান্য করে, এবং মুসলিমদের অনুসৃত পথের (রীতিনীতির) বিরুদ্ধে চলে, আমি তাকে ঐ দিকেই ফেরাব, যে পথ সে বেঁছে নিয়েছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। সুরা নিসাঃ ১১৫ যারা রাসূলের নির্দেশ মানে না, তাঁরা রাসূলের উম্মত থাকে নাঃ দলীলঃ রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ যে আমার সুন্নত থেকে মুখ ফিরায় (অমান্য করে) সে আমার উম্মত নয়। (বুখারী, মুসলিম) দাড়ি চাঁছা ব্যক্তির সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা বলতেন নাঃ দলীলঃ রাসূল (সাঃ) মসজিদে উপস্থিত ছিলেন। তখন তার কাছে এমন এক ব্যক্তি এলো, যার চুল ও দাড়ি চাঁছা ছিল। রাসূল (সাঃ) তাকে ইশারায় চলে যেতে বললেন এবং ইঙ্গিত করলেন, সে যেন চুল ও দাড়ি রাখে। (মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং ৫১।২।৭) দাড়ি চাঁছা সম্পর্কে সহীহ আলেমদের ফতোয়াঃ >) সউদী গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ ইবনে বায (র:) বলেনঃ “দাড়ি সংরক্ষন করা, পরিপূর্ণ রাখা এবং বড় হতে দেয়া ফরয”। >) ইবনে তাইমিয়া (র:) বলেনঃ “দাড়ি চাঁছা হারাম”। ইমাম কুরতুবী (র:) বলেন “দাড়ি চাঁছা, উঠানো কিংবা ছাঁটা কোনটাই জায়েয নয়”। >) শায়খ ইবনে উসাইমিন (র:) বলেনঃ “দাড়ি রাখা ওয়াজিব, দাড়ি চাঁছা কবীরা গুনাহ ও হারাম”। >) ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) দাড়ি চাঁছা ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করতেন না। যে রাখে না দাড়ি, সে হতে চায় নারীঃ আমরা জানি যে, নারীদের জন্মগতভাবেই দাড়ি নেই। আর তাই, যেসব পুরুষ রাখে না দাড়ি, তাঁরা হতে চায় নারী। নারীর রূপধারী পুরুষ এবং পুরুষের রূপধারী নারীদের জন্য অভিশাপঃ দলীলঃ রাসূল (সাঃ) নারীর মত রূপধারী পুরুষদের এবং পুরুষের মত রূপধারী নারীদের অভিশাপ (লানৎ) করেছেন। (বুখারী) দাড়ি চাঁছা ব্যক্তি “মালাউন” (অভিশপ্ত) দলীলঃ রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ সুন্নত অমান্যকারীদের আমি লানৎ করেছি এবং আল্লাহ্তাআলাও লানৎ (অভিশাপ) করেছেন। (মুস্তাদ্রাক হাকিম, সহীহ) যে কাফেরদের মত দাড়ি কামাবে, (আখেরাতে) সে তাঁদেরই একজন গণ্য হবে এবং তাঁদের মতই প্রতিদান পাবেঃ দলীলঃ রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের অনুকরন করবে, (আখেরাতে) সে তাদের একজন হিসেবেই গণ্য হবে। আর প্রতিদানও পাবে তাদের মতই। (তিরমিযী, আবু দাউদ সহীহ) দাড়ি চাঁছা ব্যক্তি ও যেনাকারীর তুলনাঃ দাড়ি কামানো যেমন কবীরা গুনাহ, তেমনি যেনা (ব্যভিচার) করাও কবিরা গুনাহ। আর যতক্ষণ পর্যন্ত কোন ব্যক্তি কবীরা গুনায় লিপ্ত থাকে ততক্ষণ সে ঈমানহীন থাকে। যেনাকারী যতক্ষণ পর্যন্ত যেনায় লিপ্ত থাকে ততক্ষণ পর্যন্তই সে মহান আল্লাহ্ এবং রাসূলের অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকে এবং ঈমানহীন থাকে। যেহেতু যেনাকারী এই কাজ গোপনে করে তাই তাঁর বিরুদ্ধে বেশী সাক্ষীও থাকে না। কিন্তু দাড়ি চাঁছা ব্যক্তি সকল সময়েই আল্লাহ্ এবং রাসূলের অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকে, তাই দিন-রাতের সব সময়েই সে ঈমানহীন অবস্থায় থাকে। যেহেতু উক্ত ব্যক্তি দাড়ি কামিয়ে প্রকাশ্যে সমাজে চলাফেরা করে। তাই সমাজে যারাই তাঁকে দাড়ি চাঁছা অবস্থায় দেখবে, তাঁরাই তাঁর এই ভায়াবহ নাফরমানীর বিরুদ্ধে আখেরাতে আল্লাহ্র কাছে সাক্ষ্য দেবে। মনে রাখবেনঃ আমরা যদি মুসলমান (পুরুষ) হতে চাই, তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই দাড়ি রাখতে হবে এবং ইসলামী পোশাক পরিধান করতে হবে। কাফেরদের দাড়ি চাঁছা ফ্যাশন পালন করে আর যাই হোক, মহান আল্লাহ্র প্রিয় মুসলমান হওয়া যাবে না। যেখানে (সাঃ) লেখা রয়েছে সেখানে “সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম” পড়তে হবে। কৃতজ্ঞতাঃ ইসলামী শরীয়াতে দাড়ির পদমর্যাদাঃ সরলপথ। * কোন ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে হেয় করা লেখাটির উদ্দেশ্য নয়। তবে, পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসের বিঁধান অনুযায়ী যদি কেউ হেয় হয়ে থাকেন, তাহলে সে প্রকৃতই হেয় হবার যোগ্য। মহান আল্লাহ্ আমাদেরকে প্রিয় নবীর সুন্নত সঠিকভাবে পালন করে তাঁর উম্মত হিসেবে আখেরাতে তাঁর সাথেই জান্নাতে যাওয়ার তৌফিক দিন। আমীন।

Share.

About Author

Leave A Reply