প্রথম স্টেপ বান্দার সেটা হল চেষ্টা এবং দোআ

0

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না
রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

জীবনে এমন কিছু সময় আছে বা অতিক্রম হয় মনে হয় চারিদিক অন্ধকার। আলো আসবেই না। দোআ করেও সারা মিলেই না।

কিন্তু একদিন এই কষ্টের অন্ধকার কেটে যাবে ইন শা আল্লাহ। সুখের সোনালি সূর্যটা এসে আলোকিত করবে জীবনটাকে। তখন অই কষ্টের কথা মনে থাকবে না।
কিন্তু প্রথম স্টেপ বান্দার সেটা হল চেষ্টা এবং দোআ এরপর আল্লাহ ই করবেন। আর যদি চেষ্টা করার ও কোন পথ না থাকে তাহলে দোআ ই যথেষ্ট। ” তুমি কি জানো!!! ??
দোআ যেখানে পৌঁছাতে পারে আমরা সেখানে এই দুনিয়াতে বেচে থাকা অবস্থায় পৌঁছাতে পারবনা। কিন্তু দোআ ঠিকই তুমার রবের কাছে পৌঁছে যাবে।

তবে অবশ্যই দোআ হতে হবে শিরিক, বিদাত এবং হারাম মুক্ত।
হারাম খাবার হলে দোআ কবুল হবেনা

মুসা (আ) যখন বণী ইসরাইলদের নিয়ে সমুদ্রের সামনেই উপস্থিত হল আর চারিদিক থেকে ফিরাউন দলবল নিয়ে আসছিল তখন আল্লাহর হুকুমে উনি সমুদ্রে লাঠি দিয়ে আঘাত করে ফলে আল্লাহ রাস্তা করে দিলেন সমুদ্রের মধ্যে দিয়ে ” সুবহানআল্লাহ ” মূসা (আ) প্রথম স্টেপ ছিল.. সমুদ্রে লাঠি দিয়ে আঘাত করা। আর আল্লাহ অই লাঠির আঘাত না করলেও কিন্তু রাস্তা করে দিতে পারতেন কিন্তু আল্লাহ বান্দার চেষ্টা দেখেন।

??

আর ইসুফ (আ) কে যখন
সে রমণী তার কামনা বাসনা পূর্ণ করার জন্য ঘরের দরজা সব বন্ধ করে দিল ?। তখন ইউসুফ (আ) কি করেছিলেন তার প্রথম স্টেপ ছিল আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছিলেন এবং ২য় স্টেপ ছিল দৌড় দিয়ে উনি দরজার কাছে চলে গেলেন আর দরজা অটোমেটিক আল্লাহর হুকুমে খুলে গেল সুবহানআল্লাহ।

আচ্ছা এবার বলুন তো যে আল্লাহ সমুদ্রের মাঝে রাস্তা তৈরি করতে পারে মুহুর্তে তিনি কি আপনার আমার জীবনের এই ছোট, বড় কষ্ট বা সমস্যা গুলো নিমেষেই দূর করতে পারবেন না???

শুধু একটু সবর, চেষ্টা এবং দোআ করে যেতে হবে আমাদের

আল্লাহ কুরানে বলেছেন সবর এবং সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাইতে।

?➖ আমি কাউকেই তার সাধ্যাতীত কষ্ট দেই না (২৩:৬২)

কষ্ট হচ্ছে অনেক, একটু সবর….

” নিশ্চয় আল্লাহ কষ্টের পর দিবেন সস্তি”
সুরা আত তালাক :৭

অনেক সময় দোআ করি একটা কিন্তু আল্লাহ সেটা না দিয়ে দেন আরেকটা।
আলহামদুলিল্লাহ ?
ইবনে কায়ুম (রহঃ) বলেছিলেন আল্লাহ যখন আমি যেটা চাই সেটা পূরণ করেন তখন আমি একবার খুশি হয়। আর যখন যেটা চেয়েছি সেটা দেন না তখন আমি ১০ বার খুশি হয় কেননা প্রথমটা আমার ইচ্ছে। আর যেটা দেন না সেটা আল্লাহর ইচ্ছে ” সুবহানআল্লাহ”

আসলেই এইটা চিন্তা করলেই অন্তরটা শান্তিতে ভরে যায়। আমার রব আমার জন্য এইটা চাইছেন না কারণ আমার জন্য তা কল্যাণকর নয়।
তার মানে আমাদের তিনি কতসুন্দর করে টেককেয়ার করে চলেছেন সবসময় আলহামদুলিল্লাহ।

শুধু আমরাই অধম বান্দা প্রকৃত সবর করে তাওয়াককুল করতে পারিনা দয়ালু আল্লাহর উপর।

ইবনে কাইয়ুম (রহ:) বলেছিলেন আল্লাহ দোয়া কবুল করেন এটার প্রমাণের জন্য একটা আয়াতই যথেষ্ট -?
তোমরা আমাকে স্মরণ কর আমিও তোমাদের স্মরণ করবো
সুরা বাকারা : ১৫২

(সংগ্রহ লেকচার শাইখ ইয়াসির কাদি পাওয়ার অফ দোআ )

কুরানে আল্লাহ বলেছেন

” হয়ত তোমরা যা অপছন্দ কর সেটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর।আর তোমরা যা পছন্দ কর তা তোমাদের জন্য হ্মতিকর। আল্লাহ জানেন কিন্তু তোমরা জানো না। (সুরা বাকারা: ২১৬)

দেখছেন আল্লাহ কি সুন্দর করে বলে দিয়েছেন আমরা জানি না কিন্তু আল্লাহ জানেন কোনটা আমাদের জন্য কল্যাণকর আলহামদুলিল্লাহ।

☔ অনেকে আছে বিয়ে হয়না, সন্তান হয়না এসব নিয়ে খুব হতাশায় ভুগে আমরা ভুলেই যায় আসলে আমাদের এই দুনিয়াতে আসার উদ্দেশ্য কি? আমাদের কেন সৃষ্টি করা হয়েছে??

অথচ এগুলো জীবনের পরীহ্মা। একটা ধাপ পাড় হলে আরেকটা ধাপে যেতে হয়। মনে হয় পরীহ্মার একহল রুম থেকে অন্য হল রুমে গিয়ে আবার পরীহ্মা দিতে বসলাম। হয়ত সে পরবর্তী হল রুমে পরীহ্মাটা হয় সুখ দিয়ে বা দুঃখ দিয়ে।

কিন্তু আমরা সুখে থাকলে সেটাকে পরীহ্মা মনে করিনা। অনেক সময় আল্লাহকেই ভুলে বসি সুখের সাগরে গা ভাসিয়ে চলি।??
আমরা একটা কষ্টের ধাপ পাড় করলেই মনে করি যাক বাবা এই বুঝি শেষ হলো আমার জীবনের দুঃখ ( কষ্টের পরীহ্মা)।
কিন্তু আসলেই আপনাকে পরবর্তী পরীহ্মার ধাপের জন্য সাগতম জানানো হয়েছে। সেটা হয়ত সুখ দিয়ে ও হতে পারে বা আপনি আল্লাহর কাছে যা চেয়েছেন তা দিয়ে ও হতে পারে।

ধরুন কারো বিয়ে হচ্ছে না অনেক বছর ধরে অনেক চেষ্টা করার পরও এবং মনের মত হয়ত পাত্র মিলছেনা । কিন্তু একটা সময় দেখা গেল বিয়ে হয়ে গেল এবং মনের মত পাত্র ও পেয়ে গেলেন। এবং এটাই হল আরেকটা পরীহ্মার ধাপ শুরু………

✔আল্লাহ কিন্তু কুরানে বলেছেন আমি তোমাদের পরীহ্মা করব➖

এবং নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে ভয়, ক্ষুধা, ধন, প্রাণ এবং ফল-ফসলের দ্বারা পরীক্ষা করব; এবং ঐ সব ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ প্রদান কর। (সুরা বাকারা : ১৫৫)

?আবার এটাও বলে দিয়েছেন কিভাবে সাহায্য চাইবে আল্লাহর কাছে “সুবহানআল্লাহ”?➖

হে বিশ্বাস স্থাপনকারীগণ! তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর; নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলগণের সাথে আছেন।
( সুরা বাকারা : ১৫৩)

আল্লাহ কুরান এটাও বলছেন ?

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ

আর জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদাত করবে। ( সুরা যারিয়াত৫১:৫৬)

রাসুল (সা) বলেছিলেন-
একজন মা তার সন্তানকে যতটুকু ভালবাসেন তারচেয়ে বেশি ভালবাসেন আল্লাহ তার বান্দাকে।
( হাদিসটি সহিহ )

বিপদ আসলেও হতাশ না হওয়া, যেখানে আল্লাহ মায়ের চেয়ে ও অধিক ভালবাসেন বান্দাকে। সেখানে হতাশ হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

ইস্তেগফার করুন➖?
বিপদ দূর করা আর মনের চাওয়া পূরণ এর জন্য,,,,?

সোনালি যুগের (সাহাবী ও তাবেয়ীনদের যুগ) এর একটি ঘটনা।
.
একবার হাসান বসরী রাহ. এর কাছে এক ব্যক্তি জানালো “ আমার ফসলে খরা লেগেছে। আমাকে আমল দিন” হাসান বসরী তাকে বললেন এস্তেগফার করো। কিছুক্ষণ পর আরেক ব্যক্তি এসে অভিযোগ পেশ করল “আমি গরীব। আমাকে রিজক এর আমল দিন” হাসান রহ. তাকেও বললেন, “এস্তেগফার করো”। এমনিভাবে অপর এক ব্যক্তি এসে সন্তান হওয়ার আমল চাইলে তিনি বললেন, “এস্তেগফার করো।” উপস্থিত ছাত্ররা জিজ্ঞেস করল, “সবাইকে এক পরামর্শই দিলেন যে?” বিখ্যাত তাবেয়ী হাসান বসরী রহ. বললেন “আমি নিজের পক্ষ থেকে কিছুই বলিনি। এটা বরং আল্লাহ তায়ালা তার কুরআনে শিখিয়েছেন । তারপর তিনি সুরা নুহ এর আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন। (তাফসীরে কুরতুবী ১৮/৩০৩)
.
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا. يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا. وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا
.
নুহ আ. বললেন “তোমরা তোমাদের রবের কাছে এস্তেগফার করো। ( ক্ষমা চাও) নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বারিধারা বর্ষণ করবেন। তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধির মাধ্যমে তোমাদের সাহায্য করবেন। তোমাদের জন্যে উদ্যান তৈরি করবেন, তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।” (সুরা নূহ- ১০-১২)
.
এই আয়াতের দ্বারা আমরা এস্তেগফার এর যেসব উপকারিতা জানতে পারলাম। তার মধ্যে দুটি হচ্ছে ১- রিজক বৃদ্ধি ২- সন্তান লাভ। যেহেতু সন্তান বিয়ের মাধ্যমেই হয়। সুতরাং এস্তেগফারের দ্বারা বিয়ের ব্যবস্থাও আল্লাহ করে দিবেন।
.
এছাড়া অন্য আয়াতে বলেন, لَوْلَا تَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
.
সালেহ আ. বলেন “ তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কেন করছ না, যাতে করে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও।’’ (সুরা নমল-৪৬)
.
ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা। বলেন “যে ব্যক্তি নিয়মিত এস্তেগফার করে , আল্লাহ তায়ালা তাকে যে কোন সংকটে পথ দেখাবেন। যে কোন ধরনের পেরেশানী ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করবেন। এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।”

ইস্তেগফারঃ

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

আমি আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকটই তাওবা করছি

আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতূবু ইলাইহি

বুখারী (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১০১, নং ৬৩০৭; মুসলিম ৪/২০৭৫, নং ২৭০২।

এবার আসি ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহঃ) এর একটি ঘটনায়➖?

ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহঃ) একদিন চলতে চলতে পথে রাত হয়ে যায়। উনাকে দেখে আবার চেনা যেত না। উনি এক মসজিদে থাকার জায়গা চাইল বলল আমি মুসাফির মানুষ আমাকে রাতটা থাকার জায়গা দাও কিন্তু ওরা উনাকে জায়গা দিল না। পথে এক রুটিওয়ালা যাচ্ছিল সে বলল চলেন আমার সাথে । এখন রুটিওয়ালার সাথে গেল। সেখানে দেখল রুটিওয়ালা সকালের জন্য রুটির আটা ছেনে রাখছে আর আটা ছানতে ছানতে বলছে আস্তাগফিরুল্লাহ,
আস্তাগফিরুল্লাহ,,
মুসাফির জিজ্ঞেস- করলেন ভাই রুটিওয়ালা – তুমি আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ছ কেন? এই আস্তাগফিরুল্লাহর মধ্যে কি আছে?
তখন রুটিওয়ালা বলল- আমি জানি না এই আস্তাগফিরুল্লাহর মধ্যে কি আছে!!! তবে জীবনে যতকিছু চাওয়ার ছিল সব আস্তাগফিরুল্লাহর মাধ্যমে পেয়েছি।
তখন মুসাফির নিচের আয়াত বললেন

“ তোমরা তোমাদের রবের কাছে এস্তেগফার করো। ( ক্ষমা চাও) নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বারিধারা বর্ষণ করবেন। তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধির মাধ্যমে তোমাদের সাহায্য করবেন। তোমাদের জন্যে উদ্যান তৈরি করবেন, তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।” (সুরা নূহ- ১০-১২)

আবার রুটিওয়ালা বললেন – আমার এখনো একটি আশা পূরণ করেন নি।

মুসাফির বলল- কি আশা তুমার পূরণ হয়নি?

রুটিওয়ালা বলল – এই জমানার শ্রেষ্ঠ আলেম ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহঃ) এর সাথে দেখা এই আশা আমার এখনো পূরণ হয়নি।

তখন মুসাফির বলল –
তুমি যে, মুসাফির কে থাকার জায়গা দিয়েছ সেই হল ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহঃ) ।
(সংগ্রহ লেকচার শাইখ আমানুল্লাহ মাদানি)
“আল্লাহু আকবর”?

ইস্তেগফারের মাধ্যমে কি সুন্দর তার চাওয়া পূরণ করে দিলেন আল্লাহ।

আমাদের উচিত নিয়মিত যত বেশি পারা যায় ইস্তেগফার করা।

আল্লাহ আমাদের প্রকৃত সবর এবং যথাযথ আল্লাহর উপর ভরসা করা তৌফিক দান করুক।
আমিন

Share.

About Author

Leave A Reply